Shanidev Vratkatha In Bengali PDF – শনিদেবের ব্রতকথা – মানবজীবনে শনির সাড়েসাতি ও আড়াইয়ের দুষ্প্রভাবে নানান ওঠাপড়া দেখা দেয়। এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে ব্যক্তি শনিদেব মহারাজকে খুশি করার নানান উপায় করে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম কার্যকরী উপায় হল শনিবার ব্রতকথা পাঠ। শনিবার এই ব্রতকথা পাঠ করলে বা শুনলে নানান ধরনের শনি-দোষের দুষ্প্রভাব কম করা যায়। চলুন শুরু করা যাক।

শনিদেবের ব্রতকথা । Shanidev Vratkatha In Bengali
সমস্ত কথা শোনার পর রাজাও চিন্তিত হয়ে পড়েন। কারণ তিনি বুঝতে পারেন যে, যাকেই ছোট বলবেন, সে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে। তাই ছোট-বড়র সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একটি পথ খুঁজে বের করেন রাজা বিক্রমাদিত্য। তিনি স্বর্ণ, রজত, কাঁসা, পিতল, সীসা, টিন, দস্তা, অভ্র ও লোহার ৯টি সিংহাসন বানিয়ে এই ক্রমানুসারে রেখে দেন। তার পর নবগ্রহের প্রত্যেককে সেই সিংহাসনে স্থান গ্রহণ করার নিবেদন করা হয় এবং এ-ও বলেন, যিনি শেষ সিংহাসনে বসবেন, তিনি সবচেয়ে ছোট গণ্য হবেন।
সমস্ত গ্রহ আসন গ্রহণ করেন, কিন্তু লোহার সিংহাসনে শেষে থাকায়, শনি সেই সিংহাসনে স্থান পান। তাই শনিকে সবার মধ্যে ছোট আখ্যায়িত করা হয়। শনির মনে হয় যে রাজা ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজটি করেছেন। তখন তিনি রেগে গিয়ে রাজাকে বলেন যে, ‘রাজা, তুই আমায় চিনিস না। সূর্য এক রাশিতে এক মাস, চন্দ্র সওয়া দুই দিন, মঙ্গল দেড় মাস, বৃহস্পতি ১২ মাস, বুধ ও শুক্র এক এক মাস, কিন্তু আমি আড়াই থেকে সাড়েসাত বছর বিরাজ করি। অনেক প্রভাবশালীদের ধ্বংস করেছি আমি। রামের সাড়েসাতি শুরু হলে তাঁর বনবাস হয়ে যায়, রাবণের সাড়েসাতি শুরু হলে তার পরাজয় হয়। এবার তুই সাবধানে থাকিস।’ এই কথা বলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন ক্ষুব্ধ শনি।
অন্য দেবতারা বিক্রমাদিত্যের সভা থেকে খুশি খুশি প্রস্থান করেন। কিছুকাল পর রাজার সাড়েসাতি শুরু হয়। তখন শনি সেখানে ঘোড়া ব্যাবসায়ীর রূপ ধরে আসেন, তাঁর কাছে বেশ কিছু ভালো ঘোড়া ছিল। এ কথা শুনে রাজা অশ্বপালকে ভালো ঘোড়া কেনার নির্দেশ দেন। ঘোড়া কেনার পর অশ্বপাল উৎকৃষ্ট ঘোড়াটি রাজাকে দেন। রাজা সেই ঘোড়ায় চড়ে বসার সঙ্গে সঙ্গে সেই ঘোড়াটি বনের দিকে ছুটতে শুরু করে। গভীর বনে পৌঁছে সেই ঘোড়া অন্তর্ধান হয়ে যায়।
রাজা তৃষ্ণার্ত, ক্ষুধার্ত অবস্থায় এদিক ওদিক ঘুরতে থাকে। তখনই এক গোয়ালা তাঁকে জল পান করান। রাজা প্রসন্ন হয়ে তাঁকে নিজের আংটি দেন। সেই আংটি দিয়ে রাজা নগরের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে নিজেকে উজ্জয়িনীর বাসিন্দা বীকা বলে পরিচয় দেন। ওই নগরে এক শেঠের দোকানে জল পান ও বিশ্রাম করেন তিনি। ভাগ্যবশত সে দিন শেঠের ভালো বিক্রি হয়। শেঠ খুশি হয়ে বীকাকে নিজের বাড়ি নিয়ে আসেন। বাড়িতে এক খুঁটিতে হার টাঙানো ছিল, সেই খুঁটিটিই হার গিলে খাচ্ছিল। ক্রমশ সেই হার সেখান থেকে কর্পূরের মতো উবে যায়। শেঠ এসে হারের কোনও চিহ্ন দেখতে না-পেয়ে বীকার ওপর সন্দেহ করে। তাঁর মনে হয় যে বীকা সেই হারটি চুরি করেছে। এ কারণে তাঁকে কোতওয়ালের হাতে তুলে দেন ওই শেঠ।
এর পর ওই নগরের রাজা বীকাকে চোর ভেবে তাঁর হাত-পা কেটে নগরের বাইরে বের করে দেন। ওই সময় সেখান থেকে এক তেলী যাচ্ছিল। বীকার এমন অবস্থা দেখে তাঁর মায়া হয়। তাঁকে নিজের গরুর গাড়িতে বসিয়ে দেন। নিজের জিহ্বা দিয়ে গোরু হাঁকতে শুরু করেন তিনি। সে সময় রাজার শনির দশা সমাপ্ত হয়। বর্ষা ঋতুর আগমনের পর বীকা রাগ মল্হার গাইতে শুরু করেন। রাজা অর্থাৎ বীকা যে নগরে এই রাগ গেয়েছিলেন, সেই নগরের রাজকুমারী মনভাবনী তাঁর গান শুনে এতটাই প্রসন্ন হন যে, সেই গায়ককে বিবাহ করার মনঃস্থির করেন। রাজকুমারী নিজের দাসীকে রাগ মল্হারের গায়ককে খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন। দাসী রাজকুমারীকে জানান যে, সেই গায়ক আসলে দিব্যাঙ্গ। কিন্তু রাজকুমারী নিজের প্রতিজ্ঞা থেকে এক চুলও নড়েন না। অনেক বোঝানো সত্ত্বেও রাজকুমারী মত না-পাল্টালে অবশেষে রাজা সেই তেলীকে ডেকে পাঠান। তার পর বীকার সঙ্গে রাজকুমারীর বিবাহ সম্পন্ন হয়।
একদা ঘুমের মধ্যে রাজা বিক্রমাদিত্যকে শনি দর্শন দেন। বলেন যে, ‘রাজা দেখলে, তুমি আমায় ছোট করে কত কষ্ট ভোগ করলে।’ তার পর রাজা শনির কাছে ক্ষমা চান। তখন শনির কাছে প্রার্থনা করেন যে, ‘শনিদেব যেমন দুঃখ আপনি আমায় দিলেন, তেমন কাউকে দেবেন না।’
শনি রাজার প্রার্থনা শিকার করেন। বলেন যে, ‘যাঁরা আমার ব্রত পালন করবে ও ব্রতকথা পাঠ করবে, তাঁদের আমার দশায় কোনও দুঃখ ভোগ করতে হবে না। যে ব্যক্তি প্রতিদিন আমার ধ্যান করবে ও পিঁপড়েকে আটা খাওয়াবে তাঁর সমস্ত মনস্কামনা পূর্ণ হবে।’ এর পর শনি রাজাকে তাঁর হাত-পা ফিরিয়ে দেন। সকালবেলা চোখ খোলার পর রাজকুমারী বীকাকে দেখে আশ্চর্যচকিত হয়ে পড়েন। তখন বীকা তাঁকে নিজের আসল পরিচয় দেন, তিনি উজ্জয়িনীর রাজা বিক্রমাদিত্য। সকলে খুব খুশি হয়।
এ কথা জানার পর শেঠ তাঁর পা ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করতে শুরু করেন। তখন রাজাকে তাঁকে সমস্ত কথা জানান। শেঠ বলে রাজা তাঁর বাড়ি গিয়ে অন্নগ্রহণ করলে তিনি শান্তি পাবেন। নিজের বাড়িতে রাজার আপ্যায়ন করেন শেঠ। আবার দেখা যায় যে খুঁটিতে সেই হারটিও টাঙানো রয়েছে। শেঠ অনেক মোহর দিয়ে রাজাকে ধন্যবাদ জানান।
এর পর শেঠ রাজাকে নিজের মেয়ে শ্রীকঁবরীর সঙ্গে বিবাহ করার আবেদন জানান। রাজা তাঁর এই প্রস্তাব স্বীকার করেন। কিছু কাল পর রাজা নিজের দুই রানি মনভাবনী ও শ্রীকঁবরীর সঙ্গে উজ্জয়িনী পৌঁছন। সেখান নগরবাসীরা রাজাকে অর্ভ্যথনা জানান। প্রদীপ দিয়ে নগর সাজানো হয়। তিনি ঘোষণা করেন যে, ‘আমি শনিকে সবার ছোট আখ্যা দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনিই আসলে সর্বোপরি।’ তার পর থেকেই রাজ্যে শনির পুজো ও ব্রতকথা নিয়মিত পাঠ শুরু হয়। সমস্ত প্রজা আনন্দে জীবন কাটাতে শুরু করেন।
যে ব্যক্তি শনির এই ব্রতকথা পাঠ বা শ্রবণ করেন, শনি তাঁর সমস্ত দুঃখ দূর করেন। শনিবার এই ব্রতকথা পাঠ করা অধিক শুভ।
Shanidev Vrat Katha in Bengali PDF [DOWNLOAD]
আরো পড়ুন –
উপসংহার – আশা করি আপনি আজকের পোস্ট থেকে উপকৃত হয়েছেন। শ্রী শনি দেব এর কৃপায় আপনার জীবনের সমস্ত কষ্টের অবসান হোক। আপনি যদি ভগবান শ্রী শনি দেব এর উপাসনা করেন তবে আপনার জীবনের সমস্ত বাধা বিপত্তি দূর হয়, আপনার সমস্ত ইচ্ছা পূরণ হয়। আপনি যদি এই নিবন্ধটি থেকে উপকৃত হন, একটি মন্তব্য রেখে আমাদের উত্সাহিত করুন।
আরো তথ্য জানতে ক্লিক করুন এখানে
আরো পড়ুন
- হনুমান জয়ন্তী ২০২৬ । Hanuman Jayanti 2026 In Bengali
- শনিদেবের ব্রতকথা । Shanidev Vratkatha In Bengali PDF
- Hanuman Jayanti 2026 : Date, puja vidhi, shubh muhurat, Powerful Mantra | हनुमान जयंती 2026
- 2026 Rama Navami Kab Hai | राम नवमी 2026 | राम नवमी व्रत कथा PDF
- Shivratri 2026 Bengali Date | 2026 মহাশিবরাত্রি | মহাশিবরাত্রি ব্রত কথা
- Mahashivratri Date 2026 | 2026 महा शिवरात्रि | महाशिवरात्रि व्रत कथा
- 2026 Indian Festivals list
- Saraswati Puja 2026 Date In English
- Panchmukhi Hanuman Chalisa Lyrics In Hindi | पंचमुखी हनुमान चालीसा
- Saraswati Puja 2026 Date | 2026 সরস্বতী পূজা | সরস্বতী পূজা পদ্ধতি PDF
- Navratri 2025 In Hindi | २०२5 शारदीय नवरात्रि पूजा की तारीख और शुभ मुहूर्त, कलर
- kojagari Laxmi Puja 2025











