Kojagari Lakshmi Puja Vidhi | বাড়িতে পুরোহিত ছাড়া কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার সহজ পদ্ধতি ও মন্ত্র

বাড়িতে পুরোহিত ছাড়া কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার সহজ ও সঠিক পদ্ধতি (Kojagari Lakshmi Puja Vidhi) আপনার সুবিধার্থে আজকের পোস্ট এ দেওয়া হলো।

বাড়িতে পুরোহিত ছাড়া কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার সহজ পদ্ধতি ও মন্ত্র | Kojagari Lakshmi Puja Vidhi

শরতের স্নিগ্ধ সন্ধ্যায় বাঙালির ঘরে ঘরে মা লক্ষ্মীর আগমন এক অনাবিল আনন্দ, শান্তি ও সমৃদ্ধির বার্তা নিয়ে আসে। নিজের হাতে পরম মমতায় মায়ের আরাধনা করার তৃপ্তিই আলাদা। আপনি চাইলে কোনো পুরোহিতের সাহায্য ছাড়াই সম্পূর্ণ শাস্ত্রীয় নিয়মে, অথচ অত্যন্ত সহজ উপাচারে বাড়িতেই সম্পন্ন করতে পারেন কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা (Kojagari Lakshmi Puja Vidhi ) ।

মা লক্ষ্মী আড়ম্বর নয়, বরং নিখাদ ভক্তি ভালোবাসেন। নিচে ধাপে ধাপে পূজার সহজ ও সঠিক নিয়মাবলি তুলে ধরা হলো ( Kojagari Lakshmi Puja Vidhi) কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার সহজ ও সঠিক পদ্ধতি –

ধাপ ১: শুদ্ধি ও পবিত্রতা
পূজার প্রথম শর্তই হলো কায়মনোবাক্যে শুদ্ধতা। পূজার বেদী এবং নিজের আসনের চারপাশে তিনবার ‘গঙ্গা’ নাম উচ্চারণ করে গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিন। এরপর ডান হাতে সামান্য গঙ্গাজল নিয়ে নিজেকে শুদ্ধ করার জন্য নিচের মন্ত্রটি পাঠ করুন:

‘অপবিত্রঃ পবিত্রোবা সর্ব্বাবস্থাং গতো এইহপি বা।
যঃ স্মরেৎ পুণ্ডরীকাক্ষ স বাহ্যভ্যন্তর শুচিঃ।।’

এরপর তিনবার ভগবান নারায়ণকে স্মরণ করুন (পুরুষরা বলবেন ‘ওঁ বিষ্ণু’, আর মহিলারা বলবেন ‘নমঃ বিষ্ণু’)। এতে আপনার মন ও চারপাশের পরিবেশ পূজার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও পবিত্র হবে।

ধাপ ২: পূজাবেদী ও অর্ঘ্য সাজানো
মায়ের বসার স্থানটি সুন্দর করে ফুল ও আলপনায় সাজিয়ে তুলুন। পূজাবেদীতে একটি তামার কোষাকুষিতে জল রাখুন। পাশে আরেকটি তামার পাত্রে জল, জবা ফুল, দূর্বা এবং আতপ চাল মিশিয়ে প্রথমে সূর্যদেবকে অর্ঘ্য নিবেদন করুন। ধীরে ধীরে জল ঢালতে ঢালতে সূর্যদেবকে স্মরণ করে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এতে পূজার পরিবেশ আরও তেজোদ্দীপ্ত ও পবিত্র হয়ে ওঠে।

ধাপ ৩: মঙ্গল ঘট স্থাপন
পূজার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ঘট স্থাপন। বেদীতে একটু মাটির প্রলেপ বা মণ্ড তৈরি করে তার ওপর ঘট বসান। মাটির মণ্ড না থাকলে ঘটে সামান্য ধান ছড়িয়ে তার ওপর বসাতে পারেন। ঘটের গায়ে সিঁদুর দিয়ে একটি স্বস্তিক চিহ্ন এঁকে নিন। ঘটে জল ভরে কয়েক ফোঁটা গঙ্গাজল দিন। এরপর ঘটের মুখে বেজোড় সংখ্যার (যেমন ৫ বা ৭টি পাতা) একটি আম্রপল্লব রাখুন। পাতার ওপর হরিতকী, ফুল ও দূর্বা দিয়ে, সিঁদুর ও তেলের ফোঁটা যুক্ত একটি শিষ-সহ ডাব স্থাপন করুন। এই সুসজ্জিত ঘটটি মা লক্ষ্মীর প্রতীক হিসেবে পূজিত হবে।

ধাপ ৪: মায়ের আবাহন বা আমন্ত্রণ
এবার পরম শ্রদ্ধায় মা লক্ষ্মীকে নিজের গৃহে আহ্বান জানানোর পালা। হাত জোড় করে ভক্তিভরে বলুন:

​“ওঁ লক্ষ্মীদেবী ইহাগচ্ছ ইহাগচ্ছ
ইহ তিষ্ঠ ইহ তিষ্ঠ
ইহ সন্নিধেহি ইহ সন্নিরুদ্ধস্য
অত্রাধিষ্ঠান কুরু মম পূজান গৃহাণ।”

মন্ত্র উচ্চারণে অসুবিধা হলে সম্পূর্ণ বাংলায় মায়ের কাছে প্রার্থনা করুন:
“মা, আমার গৃহে তোমার আগমন হোক, আমার গৃহে অধিষ্ঠান করো তুমি। নৈবেদ্যস্বরূপ আমার এই সামান্য আয়োজন তুমি গ্রহণ করো মা।”
মনে রাখবেন, ভুল মন্ত্র পড়ার চেয়ে মাতৃভাষায় ব্যাকুল হয়ে ডাকা অনেক বেশি ফলদায়ক। আপনার ভক্তিই মাকে প্রসন্ন করার মূল চাবিকাঠি।

​ধাপ ৫: প্রণাম ও নৈবেদ্য নিবেদন
মায়ের আবাহনের পর তাঁকে প্রণাম জানিয়ে নৈবেদ্য (ফল, মিষ্টি, নাড়ু, মোয়া ইত্যাদি) অর্পণ করুন। প্রতিটি নৈবেদ্যে ফুল ও বেলপাতা ছুঁইয়ে মায়ের উদ্দেশে নিবেদন করুন। প্রণাম করার সময় বলুন:

‘ওঁ বিশ্বরূপস্য ভার্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে।
সর্ব্বত পাহি মাং দেবি মহালক্ষ্মী নমস্তুতে।।’

এটিও কঠিন মনে হলে চোখ বন্ধ করে মনে মনে বলুন: “মা, আমি নিয়ম-বিধি কিছুই জানিনা, আমার এই সামান্য ভক্তি ও পুজো তুমি গ্রহণ করো।”

ধাপ ৬: পুষ্পাঞ্জলি ও পাঁচালি পাঠ
পূজার একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে মাকে তিনবার ফুল ও বেলপাতা দিয়ে অঞ্জলি প্রদান করুন। অঞ্জলির মন্ত্রটি হলো:

‘ওঁ নমস্তে সর্ব্বদেবানাং বরদাসি হরিপ্রিয়ে।
যা গতিস্তৎ প্রপন্নানাং সা মে ভুয়াত্তদর্চনাৎ।
এষ সগন্ধ পুষ্প বিল্বপত্রাঞ্জলি শ্রীং লক্ষ্মীদেব্যৈ নমঃ।।’

​অঞ্জলি দেওয়া সম্পন্ন হলে হাতে দূর্বা ও ফুল নিয়ে একাগ্র চিত্তে লক্ষ্মীর পাঁচালি পাঠ করুন। পাঁচালি পড়া শেষ হলে তিনবার শঙ্খধ্বনি বাজিয়ে পূজার সমাপ্তি ঘোষণা করুন এবং মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করুন।

এদিন লক্ষ্মী চালীসা ও লক্ষ্মী অষ্টোত্তর শতনাম পাঠ করতে পারেন। এতে মা লক্ষ্মী প্রসন্ন হবেন।

​পরিশেষ:
মা লক্ষ্মী চঞ্চলা হলেও, যে গৃহে ভক্তি, শান্তি ও পরিচ্ছন্নতা থাকে, সেখানে তিনি চিরস্থায়ী হন। উপরোক্ত সহজ ধাপগুলো মেনে সম্পূর্ণ নিজের হাতে, আন্তরিকতার সঙ্গে মায়ের আরাধনা করুন। আপনার এই নিষ্ঠা ও ভক্তিভরে ডাকা পূজায় সন্তুষ্ট হয়ে মা লক্ষ্মী আপনার গৃহে সুখ, শান্তি ও ঐশ্বর্যের প্রদীপ প্রজ্বলিত করবেন।

লক্ষ্মীপূজায় যা যা নিষিদ্ধ

কথিত আছে মা লক্ষী চঞ্চলা, তাই লক্ষী পূজার সময় কয়েকটি বিষয়ে ধ্যান রাখা উচিত, যাতে মা লক্ষ্মী আপনার প্রতি রুষ্ট না হন বরং আপনার পূজায় সন্তুষ্টি লাভ করেন এবং তাঁর অসীম কৃপা আপনি লাভ করতে পারেন। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক

  • লক্ষ্মী পূজায় কাঁসর ঘণ্টা বাজাতে নেই, শুধু শঙ্খ বাজানো উচিত।
  • লক্ষ্মী দেবীর ঘটে তুলসীপাতা দেওয়া উচিত নয়।
  • লক্ষ্মী দেবীর পূজায় ঘট স্থাপনের পাশে মায়ের পা অবশ্যই আঁকবেন।
  • লক্ষ্মী পূজায় লোহার বাসনকোসন ব্যবহার করবেন না, লোহা দেখলে মা লক্ষ্মী সেই গৃহ ত্যাগ করে যান। কারন লোহা দিয়ে অলক্ষ্মী পূজা হয়।
  • এদিন নিরামিষ আহার গ্রহণ করবেন।
  • লক্ষ্মী পূজার দিন কলহ – বিবাদ- কুকথা এগুলো এড়িয়ে চলুন।
  • সারা বাড়ি আলো দিয়ে সাজিয়ে মা কে আহ্বান জানান।


আরও পড়ুন –

উপসংহার – আশা করি আপনি আজকের পোস্ট থেকে উপকৃত হয়েছেন। শ্রী মা লক্ষ্মীর কৃপায় আপনার জীবনের সকল কষ্ট দূর হোক। আপনি যদি বিধি অনুযায়ী শ্রী মহালক্ষ্মীর পূজা আরাধনা করেন, তাহলে আপনার জীবন সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে, আপনার সমস্ত ইচ্ছা পূরণ হয়। আপনি যদি এই নিবন্ধটি থেকে উপকৃত হন, একটি মন্তব্য রেখে আমাদের উৎসাহিত করুন.

আরো ধর্মীয় তথ্য জানতে নিচে ক্লিক করুন

Read More

Sharing Is Caring:

Leave a Comment